শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বাতিল করা হয়েছে ২০২৩ সালে চালু হওয়া শিক্ষাক্রম এবং পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে ২০১২ সালের কারিকুলাম। নতুন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নানা ঘটনা, ছবি, কার্টুন ও ইতিহাস।
নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সীমিত পরিসরে তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত বই। অনলাইনে সংশোধিত ও পরিমার্জিত বইগুলো এনসিটিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন পাঠ্যবইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের "জুলাই অভ্যুত্থান"-এর ঘটনা। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে "আমাদের নতুন গৌরবগাঁথা" নামে একটি অধ্যায় সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্ণনায় রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার এক দফা দাবির আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। আন্দোলনকারীরা গণভবন ঘেরাও করে সরকারকে মূলোৎপাটন করে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
নতুন পাঠ্যবইয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ থাকলেও আন্দোলনে প্রাণ সঞ্চার করেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য ছাড়াও অন্যান্য বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের অতিরিক্ত বন্দনা। চার নেতার বিবরণীতে সংযোজিত হয়েছে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। স্বাধীনতার ঘোষণায় স্থান পেয়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম।
বইগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের সরকারের "উন্নয়নের গল্প" মুক্তিযুদ্ধের অতিরঞ্জিত বর্ণনা দিয়ে দুঃশাসন ঢেকে রাখার প্রচেষ্টা ছিল। সরকারের অধীনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট, নির্যাতন, গুম-খুনের ঘটনাগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
এই পরিবর্তন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বোঝার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
0 মন্তব্যসমূহ